জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের সংশোধনীতে '৭১-এর মানবতাবিরোধী ভূমিকার ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন ২০২২-এর সেকশন ২-এর সাব-সেকশন ১০-এর সংশোধনীতে ‘তৎকালীন’ জামায়াতে ইসলামীসহ অপরাধী দলগুলোর নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অটল অবস্থানের মুখে জামায়াত তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। সংসদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের সময় জামায়াতের সংসদ সদস্যরা ‘না’ ভোট না দিয়ে পরোক্ষভাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী ভূমিকার দায় স্বীকার (কনসিড) করে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএল আয়োজিত ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই- ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের সংশোধনী ২০২৬ সালে যখন অ্যাক্ট অব পার্লামেন্ট হিসেবে বিশেষ কমিটিতে গেল, তখন জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের নামটি বাদ দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার না করে আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিই, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, তৎকালীন আল-বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন নেজামে ইসলামী ও তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, তারাই মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার এক পর্যায়ে সংজ্ঞায় ‘তৎকালীন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পার্লামেন্টে যখন এই বিলটি পাসের জন্য প্লেস করা হয়, তখন জামায়াতে ইসলামী এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি।
তিনি বলেন, পার্লামেন্টারি প্রসেসে অংশগ্রহণ করে ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত ইনডাইরেক্টলি ১৯৭১ সালের সেই বিতর্কিত ও অপরাধমূলক ভূমিকা মেনে নিয়েছে।
জামায়াতের তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার রাজ্জাক ২০১৬ সালে একাত্তরের ভূমিকার জন্য যে দুঃখপ্রকাশ ও স্টেটমেন্টের ড্রাফট করেছিলেন, দলটির সাম্প্রতিক এই নীরব সম্মতির মাধ্যমে প্রকারান্তরে সেই অবস্থানই বাস্তবায়িত হলো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, জামায়াতকে একটি প্রগতিশীল রূপ দেওয়ার যে চেষ্টা হয়েছিল, দলের মূলধারার বর্তমান আইনজীবীরা তা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
Publisher & Editor